নোয়াখালীতে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এই অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক Nasir Uddin Nasir-কে নিজ এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন সংগঠনের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
সোমবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। মিছিলটি জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল মোড়ে গিয়ে সড়ক অবরোধে পরিণত হয়। এ সময় তারা টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানালে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নবগঠিত কমিটিতে প্রকৃত ত্যাগী ও রাজপথে সক্রিয় নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এই কমিটি সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়নি।
নোয়াখালী পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম বলেন, “ত্যাগী ও রাজপথের কর্মীদের বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত অনুসারীদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে প্রকৃত কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন।”
সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী বাবু বলেন, “ছাত্রদলের ইতিহাসে এমন বিতর্কিত কমিটি আগে কখনো হয়নি। অযোগ্যদের পদ দেওয়া হয়েছে, যা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।”
নাছির উদ্দীনের পারিবারিক পটভূমি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য এবং তার মাধ্যমে সংগঠনের ক্ষতি হচ্ছে। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত এই কমিটি বাতিলের দাবি জানান।
বিক্ষোভ শেষে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সাহেদ চৌধুরী বাবু, তারেক নূর, ইয়াসিন আরাফাত, সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেনসহ ১০ জন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তারা বলেন, দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল। তিনি বলেন, “যারা পদ পাননি তারা ত্যাগী—এটা ঠিক, তবে সবাইকে একসঙ্গে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। কমিটি গঠনে যোগ্যতা ও সাংগঠনিক বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাত্র সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রায়ই বড় আকার ধারণ করে এবং তা মূল দলীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে। এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে সংগঠনের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নোয়াখালীতে ছাত্রদলের এই বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পদত্যাগের ঘটনা সংগঠনের ভেতরের সংকটকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে, সেটিই দেখার বিষ
কসমিক ডেস্ক