ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা জানিয়েছেন, একসময় চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করার কারণে তাকে নানা নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছিল। তবে এসব মন্তব্য কখনোই তার অভিনয়জীবনের পথচলাকে থামাতে পারেনি।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত চলচ্চিত্র ‘আহারে জীবন’ নিয়ে আলোচনার মাঝেই একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পূর্ণিমা জানান, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং নাটক, টেলিফিল্ম এবং ওটিটিতেও কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, একসময় ইন্ডাস্ট্রিতে এমন ধারণা ছিল যে বড় পর্দার নায়িকারা ছোট পর্দায় কাজ করলে তাদের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেকেই তাকে বলতেন, “তুমি সিনেমার নায়িকা, নাটকে কেন যাচ্ছ? ফ্রিতে দেখা গেলে পরে সিনেমায় কেউ তোমাকে নেবে না।”
তবে এসব মন্তব্য তাকে কখনো প্রভাবিত করতে পারেনি বলে জানান পূর্ণিমা। তার মতে, অভিনয়ই তার মূল পরিচয় এবং মাধ্যম যাই হোক, চরিত্র ও গল্পই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, নাটক ও টেলিফিল্ম তার কাছে সবসময়ই কমফোর্ট জোন ছিল। বিশেষ করে ঈদ বা বিশেষ উপলক্ষকে কেন্দ্র করে ভালো গল্প পেলে তিনি সেগুলোতে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।
পূর্ণিমার চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে। প্রথম ছবিতে তিনি নায়ক হিসেবে পেয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ফেরদৌসকে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি ঢালিউডের শীর্ষ নায়িকাদের একজন হয়ে ওঠেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি রিয়াজ, মান্না, শাকিব খান, রুবেল ও আমিন খানসহ দেশের অনেক জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করে তিনি দর্শকদের কাছে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ এবং ‘মধুর মিলন’। এই সিনেমাগুলো তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়।
বিশেষ করে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমানে পূর্ণিমা মনে করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির মানসিকতা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। এখন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের মধ্যে কাজের সীমারেখা আগের মতো কঠোর নয়। শিল্পীরা এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে কাজ করতে পারছেন।
তার মতে, একজন শিল্পীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভালো গল্প এবং চরিত্র। মাধ্যম বড় না হয়ে কাজের মানই আসল বিষয়।
সব মিলিয়ে পূর্ণিমার বক্তব্যে উঠে এসেছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন এবং নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকার গল্প।
কসমিক ডেস্ক