দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল-এ টানা ভারী বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দুটি রাজ্য পেরনামবুকো এবং পারাইবা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে চলা প্রবল বর্ষণে এই অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পেরনামবুকোর রাজধানী রেসিফে এবং এর আশপাশের এলাকায়। সেখানে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১,৫০০ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে পারাইবা রাজ্যে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই রাজ্যের বিভিন্ন শহর, বিশেষ করে জোয়াও পেসোয়া, কন্ডে এবং ক্যাম্পিনা গ্রান্দে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পারাইবায় প্রায় ১,৮০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ব্রাজিলের ইন্টিগ্রেশন ও আঞ্চলিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র থেকে ২২টি সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে পেরনামবুকো ও পারাইবা অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বন্যার পানি ও ধসে যাওয়া পাহাড়ি মাটি অনেক জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, যা উদ্ধার কাজকে আরও জটিল করে তুলছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের টানা বৃষ্টিপাত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের একটি অংশ হতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরম আবহাওয়ার কারণে বন্যা, ভূমিধস ও তাপমাত্রাজনিত সংকটে পড়ছে।
স্থানীয় জনগণ জানিয়েছেন, অনেক পরিবার হঠাৎ করে ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং চিকিৎসা সহায়তার অভাব এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, ব্রাজিলের এই দুর্যোগ পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে একটি বড় মানবিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তন হয়, তার ওপর নির্ভর করছে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে কি না।
কসমিক ডেস্ক