বৈশ্বিক সংকটে কাঁচামাল দাম বৃদ্ধি, সিমেন্ট খাতে চাপ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বৈশ্বিক সংকটে কাঁচামাল দাম বৃদ্ধি, সিমেন্ট খাতে চাপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 29, 2026 ইং
বৈশ্বিক সংকটে কাঁচামাল দাম বৃদ্ধি, সিমেন্ট খাতে চাপ ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পে। কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে, ফলে খাতটি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।

দেশের সিমেন্ট শিল্প মূলত আমদানিনির্ভর। বিশেষ করে ক্লিংকার, চুনাপাথর, স্ল্যাগ, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্লিংকারই আমদানিনির্ভর, যা সিমেন্ট উৎপাদনের মূল উপাদান।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরাসরি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদকরা বাধ্য হচ্ছেন এশিয়ার বিভিন্ন দেশ—চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে বেশি দামে কাঁচামাল আমদানি করতে। এতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে শুধু কাঁচামালের দামই নয়, বেড়েছে ফ্রেইট চার্জ ও বীমা ব্যয়ও। সমুদ্রপথে ঝুঁকি বাড়ায় পরিবহন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী জানান, আগে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তুলনামূলক কম দামে ক্লিংকার আমদানি করা যেত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুবিধা আর নেই। এখন চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে বেশি দামে আমদানি করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আগে যেখানে ক্লিংকারের দাম ছিল প্রতি টন ৪২–৪৩ ডলার, এখন তা বেড়ে প্রায় ৫৩ ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে রয়্যাল সিমেন্ট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল মনসুর বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে শুধু ক্লিংকার নয়, জিপসাম ও চুনাপাথরের মতো অন্যান্য কাঁচামালের দামও বেড়েছে। বর্তমানে ক্লিংকারের দাম ৫৭–৫৮ ডলারে পৌঁছেছে এবং স্ল্যাগের দামও ২৩–২৪ ডলারে উঠেছে।

তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপথে ঝুঁকি বাড়ার কারণে পরিবহন ব্যয়ও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে দেশীয় বাজারে চাহিদা দুর্বল থাকায় উৎপাদকরা পুরো ব্যয় বৃদ্ধি ভোক্তাদের ওপর চাপাতে পারছেন না।

এদিকে নির্মাণ খাতে ইতোমধ্যে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সরকারি ব্যয় হ্রাস, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ডেভেলপার নতুন প্রকল্প স্থগিত রেখেছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সিমেন্টের চাহিদায়।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, গত কয়েক বছরে একাধিক অর্থনৈতিক ধাক্কায় এই খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসান গুনেও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় বলে তিনি সতর্ক করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা না এলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট না কমলে সিমেন্ট শিল্পের ওপর চাপ আরও বাড়বে। এতে নির্মাণ খাতেও দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখন শুধু রাজনীতি নয়, সরাসরি বাংলাদেশের নির্মাণ ও শিল্প খাতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
জাতীয় নির্বাচনে প্রতি চারজন প্রার্থীর একজন কোটিপতি

জাতীয় নির্বাচনে প্রতি চারজন প্রার্থীর একজন কোটিপতি