হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সালিশ বৈঠকে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে উপজেলার খরকি গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের কালাকারীর ছেলে আহমদের মালিকানাধীন ঢাকার একটি ফার্নিচার দোকান থেকে ঈদের আগে মুর্শেদ কামালের ছেলে তোফাজ্জল (৩৫) কিছু টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ওই অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার বিকেলে গ্রামে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে চলমান সেই সালিশ চলাকালীন সময়ে এক পক্ষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অপর পক্ষ ভিডিও ধারণে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই কথা কাটাকাটি মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।
সংঘর্ষে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর রাত প্রায় ৯টার দিকে পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, মূলত টাকা-পয়সা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের মতে, সালিশ বৈঠকের মতো শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রক্রিয়ায় এমন সংঘর্ষ অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষ করে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এ ঘটনায় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, মাধবপুরের এই ঘটনা আবারও গ্রামীণ বিরোধ মীমাংসা প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও সামাজিক উত্তেজনার ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
কসমিক ডেস্ক