চট্টগ্রামে ট্রেন বন্ধ থাকায় রেলওয়ের ক্ষতি ৮৮ লাখ টাকা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চট্টগ্রামে ট্রেন বন্ধ থাকায় রেলওয়ের ক্ষতি ৮৮ লাখ টাকা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 20, 2026 ইং
চট্টগ্রামে ট্রেন বন্ধ থাকায় রেলওয়ের ক্ষতি ৮৮ লাখ টাকা ছবির ক্যাপশন:

সাম্প্রতিক বন্যার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে টানা পাঁচ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শুধু বাতিল হওয়া টিকিটের মূল্য ফেরত দিতেই রেলওয়েকে প্রায় ৮৮ লাখ টাকা গুনতে হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকায় যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। এই সময়ে আগে বিক্রি হওয়া ১১ হাজার ৩৩৭টি অগ্রিম টিকিট বাতিল করতে হয়। যাত্রীদের টিকিটের মূল্য বাবদ মোট ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৪ টাকা ফেরত দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

তবে ক্ষতির পরিমাণ শুধু টিকিট ফেরতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় নতুন করে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফলে ট্রেন চালু হওয়ার পরও কয়েক দিন প্রত্যাশিত সংখ্যক যাত্রী পাওয়া যায়নি। অনেক যাত্রী কক্সবাজার ভ্রমণ বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়ায় রেলওয়ের অন্যান্য দূরপাল্লার রুটেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়ে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানান, সাধারণত রেললাইনের ওপর চার ইঞ্চি পর্যন্ত পানি থাকলেও নিরাপদে ট্রেন চলাচল সম্ভব। কিন্তু এবারের বন্যায় রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, টানা তিন দিন রেললাইন পানির নিচে থাকায় ট্র্যাকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত পরিদর্শন প্রয়োজন হয়। এরপর ১২ জুলাই সীমিত গতিতে বা ‘অ্যাডভান্সড পাইলটিং’ পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন জানান, অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে চলে গেলেও অবকাঠামোর বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, এই সময়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের দুই জোড়া ট্রেন কেবল ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলাচল করেছে। ফলে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পাঁচ দিনের মধ্যে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন থাকায় পরিচালনাগত ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় রুটে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, রেললাইন উঁচু করা এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলোকে আরও সহনশীল করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নির্মাণের এক সপ্তাহেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং

নির্মাণের এক সপ্তাহেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং