কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন ডান পা খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত হওয়ার পরও হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে তার বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশটি পাওয়া যায়নি। পরে ওই অংশ ছাড়াই মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন স্বজনরা।
নিহত ব্যক্তি হাসেম আলী (৬০) কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্দালপুরের শাহপুর নতুন মসজিদ মোড় এলাকায় একটি ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন হাসেম আলী। দুর্ঘটনায় তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশটি খুঁজতে গিয়ে সেটি আর পাননি বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তারা রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আব্দুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন বলেন, হাসেম আলী তার প্রতিবেশী ও আত্মীয়। হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান চেয়ারম্যান।
অন্যদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, হাসপাতালের স্টাফরা ভর্তি হওয়ার সময় বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশটি স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। এরপর কী ঘটেছে, তা তার জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার থেকে কীভাবে একটি বিচ্ছিন্ন অঙ্গের সন্ধান পাওয়া গেল না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
কসমিক ডেস্ক