আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ না হয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সমঝোতা কিংবা ভাগাভাগির নির্বাচনে বিশ্বাসী নয় এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়।
শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অবস্থান তুলে ধরেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দলের দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ২৬৮টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের বৈধ প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন। এসব আসনে দলটি সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং কোনো প্রার্থীই মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
এছাড়া বাকি ৩২টি আসনে ইসলামী আন্দোলন সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান মুখপাত্র। তবে কোন দল বা প্রার্থীকে সমর্থন জানানো হবে, সে বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলনের আমির পীর সাহেব চরমোনাই ইসলামপন্থী শক্তিগুলোর জন্য ‘একটি ভোট একটি বাক্স’ বা ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের ইসলামপন্থী রাজনীতিতে একটি প্রত্যাশা ও জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, সময়ের ব্যবধানে কিছু রাজনৈতিক শক্তি এই ওয়ান বক্স নীতিকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থেকে সরিয়ে ক্ষমতা দখলের রাজনৈতিক কৌশলে পরিণত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়টি ইসলামী আন্দোলনকে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে বলে জানান তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, দলটি কারও রাজনৈতিক সহযোগী হয়ে থাকতে চায় না। তারা একটি সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চায়, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে। স্বাধীনতা পরবর্তী নির্বাচনী ইতিহাসে যে বিতর্ক ও কলঙ্ক রয়েছে, সেখান থেকে দেশকে বের করে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সমঝোতা, ভাগাভাগি কিংবা তথাকথিত ‘সিলেকশনের নির্বাচন’ ইসলামী আন্দোলন চায় না বলেও জানান গাজী আতাউর রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি না—তা নিয়ে দলটির মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। সেই শঙ্কা থেকেই জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কসমিক ডেস্ক