বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী-তে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট একটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)। ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই এই পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক বিবৃতিতে আক্রান্ত জাহাজটির নাম ‘এটিএইচই নোভা’ (ATHE Nova) উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় জাহাজটি দুটি ড্রোন দ্বারা হামলার শিকার হয়। সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জাহাজটিতে আগুন জ্বলছিল।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন গত শনিবার থেকে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। কৌশলগত এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। ফলে এখানে যে কোনো অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
গত কয়েক দিনে ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর বিমান হামলার পর থেকেই তেহরান কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে এই ট্যাংকারে হামলা সেই প্রতিশ্রুত পাল্টা আঘাতের অংশ।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতোমধ্যেই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে যেসব দেশ বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আমদানি-রপ্তানি করে, তাদের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তবে হামলার ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা, নাবিকদের অবস্থা এবং সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া অপেক্ষায় রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক