আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে, বাংলাদেশে ভরিতে প্রভাব The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে, বাংলাদেশে ভরিতে প্রভাব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 1, 2026 ইং
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে, বাংলাদেশে ভরিতে প্রভাব ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক সোনার বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই মূল্যবান ধাতুর দাম টানা কয়েক মাস ধরে ওঠানামার মধ্যেই থাকলেও সর্বশেষ সপ্তাহে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯৮.৮৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগের শুক্রবারে সোনার দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। অর্থাৎ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।

শুধু স্পট মার্কেটই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার্স বাজারেও সোনার দরপতন হয়েছে। আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে গোল্ড ফিউচার্সের দাম ১.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৮.৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে মে মাসজুড়ে সোনার দাম মোট ০.৯ শতাংশ কমেছে, যা টানা চতুর্থ মাসের দরপতনের ধারাবাহিকতা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রায় সোনা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে যায়, ফলে বৈশ্বিক চাহিদা কমে যায়। চাহিদা কমার প্রভাব সরাসরি পড়ে দামে।

অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উচ্চ সুদের হার সাধারণত সোনার জন্য নেতিবাচক, কারণ সোনা থেকে কোনো সুদ বা রিটার্ন পাওয়া যায় না।

অ্যাক্টিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ছে এবং এর ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝোঁকে, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদের হার ও ডলারের শক্ত অবস্থান সেই চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণে রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ফেডওয়াচ টুলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাজারে এখন ধারণা করা হচ্ছে চলতি বছরের শেষ দিকে ফেড সুদের হার আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে। প্রায় ৪০ শতাংশ বিনিয়োগকারী এই সম্ভাবনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

বিশ্ববাজারে সোনার দরপতনের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রুপার দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৫.৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। প্ল্যাটিনামের দামও ০.৪ শতাংশ বেড়ে ১,৯২৫.২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ১,৩৪৩.৫৫ ডলারে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনে মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য—বিশেষ করে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন খাতের রিপোর্ট—সোনার বাজারের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের বাজারে সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে সোনার ভরি নির্ধারণ করা হয়। তাই বৈশ্বিক দরপতন অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও ভরিতে দামে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে স্থানীয় কর, মজুরি এবং চাহিদার কারণে বাস্তব দামে কিছু পার্থক্য দেখা দেয়।

সার্বিকভাবে বলা যায়, সোনার বাজার বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি, ডলার শক্তি এবং সুদের হার নীতির ত্রিমুখী প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বেশ কয়েকজন লেবানিজ সেনা নিহত

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বেশ কয়েকজন লেবানিজ সেনা নিহত