বাংলাদেশ সরকার শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের (OHCHR) সহযোগিতা চেয়েছে। এই তথ্য প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজের স্ট্যাটাসের মাধ্যমে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ৬ ফেব্রুয়ারি OHCHR-এর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক নোট ভারবাল (Note Verbale) প্রেরণ করেছে। ওই নোটে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
জেনেভাস্থ বাংলাদেশ মিশন থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়েছে, OHCHR থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া মাত্রই তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তদন্ত প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা ও সহায়তা নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তদন্তে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
OHCHR-এর সহায়তা চাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত আরও প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে শক্তিশালী হবে। এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং সাধারণ জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সরকারের দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করবে।
নোট ভারবাল পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে।
শহিদ ওসমান হাদির হত্যার ঘটনার তদন্তে এই পদক্ষেপ নেয়ার ফলে, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে হত্যাকাণ্ডের সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হবে।
বাংলাদেশ সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের মানুষের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষার প্রতি অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করছে।