অতীতে ছাত্রলীগে যুক্ত থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে, তবে কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য দলটির দরজা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আসা নেতাকর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত, গণহত্যায় অংশ নিয়েছে, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত—এমন ব্যক্তিরা কখনোই এনসিপির সদস্য হতে পারবেন না। তবে রাজনৈতিকভাবে অতীতে কেউ ছাত্রলীগ, ছাত্রদল বা ছাত্রশিবিরে যুক্ত থাকলেও তা এনসিপির কাছে মূল বিষয় নয়।
তিনি বলেন, “অতীতে কেউ কোন সংগঠন করেছে, সেটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। কেউ যখন এনসিপিতে যোগ দেবেন, তখন থেকেই তিনি দলের আদর্শ ও নীতির অনুসারী হিসেবে কাজ করবেন।”
এ সময় তিনি দলের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, এনসিপি একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা তৈরি করতে চায়, যেখানে ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে নীতি ও আদর্শ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দলটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।
National Citizens Party (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেটিকে ধারণ করেই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় দলটি। তরুণদের পাশাপাশি সব বয়সী মানুষকে এতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি রাজনীতি চাই যেখানে কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি হবে না। জনগণের রায় ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই আমাদের লক্ষ্য।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমানে যারা দলে যোগ দিচ্ছেন, তারা অনেক আগে থেকেই একই ধরনের রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করতেন। শুধু প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন ছিল। এখন তারা একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র বা অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ঠেকাতে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
এনসিপির এই অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সাবেক ছাত্ররাজনীতির কর্মীদের পুনর্বিন্যাস ও নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতামতও সামনে আসছে।
সব মিলিয়ে, এনসিপির এই ঘোষণা দেশের তরুণ ও ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।