তিন দিনের বিরতির পর সচল হলো বেনাপোল স্থলবন্দর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

তিন দিনের বিরতির পর সচল হলো বেনাপোল স্থলবন্দর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 30, 2026 ইং
তিন দিনের বিরতির পর সচল হলো বেনাপোল স্থলবন্দর ছবির ক্যাপশন:

তিন দিনের সাময়িক বন্ধের পর আবারও সচল হয়েছে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথগুলোর একটি বেনাপোল–পেট্রাপোল স্থলবন্দর। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়, এতে স্বস্তি ফিরে এসেছে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কারণে গত রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত এই স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে এ সময় অতি পচনশীল পণ্য পরিবহন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য সীমিতভাবে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার চালু ছিল।

বেনাপোল–পেট্রাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক রুট, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। তাই সাময়িক বন্ধ থাকলেও এর প্রভাব ব্যবসায়ীদের ওপর কিছুটা পড়েছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, ভারতের নির্বাচনী নিরাপত্তা নির্দেশনার কারণে বন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আবার স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক মো. শামীম হোসেন বলেন, “তিন দিনের বিরতির পর আজ সকাল থেকেই আমদানি-রপ্তানি পুরোদমে শুরু হয়েছে। ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে এবং রপ্তানি কার্যক্রমও স্বাভাবিক গতিতে চলছে।”

তিনি আরও জানান, বন্ধের সময় যাতে বন্দর এলাকায় পণ্যজট তৈরি না হয়, সে জন্য আগেই কাস্টমস ও বন্দরের পক্ষ থেকে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ফলে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

এদিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, বন্ধকালীন সময়েও কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চলমান ছিল। বিশেষ করে পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাসের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যাতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে না পড়েন।

তিনি বলেন, বন্দর চালু হওয়ার পর এখন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আবার পূর্ণ গতিতে ফিরেছে এবং বন্দর এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এই ধরনের সাময়িক বন্ধে কিছুটা আর্থিক ক্ষতি হলেও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তার স্বার্থে এটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা মেনে নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশ–ভারত বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। তাই এখানে যে কোনো সাময়িক ব্যাঘাত দুই দেশের বাণিজ্য প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে তিন দিনের স্থবিরতার পর আবারও সচল হওয়ায় বেনাপোল বন্দরে ফিরেছে স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা, যা ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতে স্বস্তি ফিরিয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আন্দোলনের প্রয়োজন নেই, শিক্ষকদের পাশে সরকার

আন্দোলনের প্রয়োজন নেই, শিক্ষকদের পাশে সরকার