আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিক নীতি ভারতের জন্য বিপরীত ফল বয়ে এনেছে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিক নীতি ভারতের জন্য বিপরীত ফল বয়ে এনেছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 23, 2025 ইং
আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিক নীতি ভারতের জন্য বিপরীত ফল বয়ে এনেছে ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে
ad728

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ‘ভারতবিরোধী মনোভাব’ ব্যবহারের প্রবণতা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্রমেই জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক পরিচালনার কৌশলও দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমনটাই উঠে এসেছে ব্রাসেলসভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে।

‘সোনালি অধ্যায়ের পর: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সঠিক পথে ফেরানো’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লির উচিত হবে আওয়ামী লীগনির্ভর কৌশল থেকে সরে এসে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা নির্বাচনী রাজনীতিতে ভারতবিরোধী বক্তব্যকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার না করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের নির্বাচনের পর ভারতের উচিত হবে নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া। অপরদিকে ঢাকার নতুন সরকারেরও ভারতের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগগুলোর প্রতি সংবেদনশীল থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে টানাপোড়েনের পেছনে ব্যক্তি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ভারতের অনাস্থাও একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বে ইউনূসের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, তার চীন সফর এবং মোদি-ইউনূস বৈঠক না হওয়ায় পারস্পরিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশিদের ভিসা কার্যক্রম স্থগিত এবং আন্তঃসীমান্ত ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে, যা বাণিজ্য ও জনসম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

একজন ভারতীয় সাবেক কূটনীতিকের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারানোর পর ভারত নীতিগত দ্বিধায় পড়ে যায়। কেউ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে থাকলেও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কিছু অংশ কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষপাতী ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাও করা হয় বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ভারতের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ তার দীর্ঘ শাসনামলে ভারত ছিল আওয়ামী লীগের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। দিল্লির সমর্থনেই দলটি একাধিক বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় টিকে ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমে গেলে সেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাবকে আরও উসকে দেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি আপাতত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটছে না। বরং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাব্য মোড় হিসেবে দেখছে ভারত। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের পরপরই সহযোগিতার হাত বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে নয়াদিল্লিকে।

অন্যদিকে সীমান্ত বিরোধ, নিরাপত্তা শঙ্কা, আধিপত্যবাদী আচরণ এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকা ও দিল্লি পরস্পরকে দোষারোপের বৃত্তে আটকে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় বিএনপি এগিয়ে থাকা শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক জটিল হলেও বর্তমান বাস্তবতায় নয়াদিল্লির স্বার্থ রক্ষায় দলটি ভারতের জন্য তুলনামূলকভাবে কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

তবে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এই সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশে ভারতবিরোধী আবেগকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং ভারতে বিজেপির কড়াকড়ি পররাষ্ট্রনীতি—এই দুই প্রবণতা ভবিষ্যতে সহিংস বিক্ষোভ, সীমান্ত উত্তেজনা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ।

সবশেষে প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়, ভারতের এই ধারণা যে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক কেবল আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার ওপর নির্ভরশীল—তা শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্যও ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শহীদের রক্তের অঙ্গীকার রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান এবি পার্টির

শহীদের রক্তের অঙ্গীকার রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান এবি পার্টির