বরিশাল-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা ও হুমকির অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থীসহ মোট আটজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিশ্চিত করেছে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান এবং বরিশালের যুগ্ম ও জেলা দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামান এই শোকজ নোটিশ জারি করেন। পৃথক তিনটি নোটিশে বিএনপির প্রার্থী ও তার সমর্থকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শোকজ নোটিশপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বরিশাল-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া তার সমর্থক হিসেবে সরিকল গ্রামের বিপ্লব প্যাদা ও রুহুল আমিন মৃধা, বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল গ্রামের সেন্টু সিকদার, মশিউর সিকদার ও সুমন খান, সাদ্দাম বাজার এলাকার রাসেল হাওলাদার এবং ধানডোবা গ্রামের শাহজাহান ফকিরের নাম রয়েছে।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পৃথক তিনটি নোটিশের মধ্যে একটি নোটিশে বিএনপির প্রার্থীকে, আরেকটিতে তার পাঁচজন কর্মীকে এবং তৃতীয় নোটিশে আরও দুইজন কর্মীকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে তাদের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন বিচারকের দপ্তরে পাঠানোর জন্য গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, শুক্রবার তারা শোকজ নোটিশ পেয়েছেন। নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির নামে তা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা ও হুমকির অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই ঘটনার পর বরিশাল-১ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। শোকজপ্রাপ্তদের লিখিত ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
কসমিক ডেস্ক