পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী রাখায় আপত্তি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী রাখায় আপত্তি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 23, 2026 ইং
পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী রাখায় আপত্তি ছবির ক্যাপশন:

নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার এবং দপ্তর পুনর্বণ্টনের আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানায় পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে গঠিত নাগরিক এই জোট।

জানা গেছে, জোটের যুগ্ম সমন্বয়কারী মানবাধিকার কর্মী জাকির হোসেন এবং অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমে যৌথ বিবৃতিটি পাঠান। বিবৃতিতে তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে তাদের এই আহ্বান তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল গণরায় নিয়ে বিজয়ী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক পথে বাংলাদেশের নতুন অভিযাত্রায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং সব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিবৃতিদাতারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যে নবগঠিত মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন পাহাড়ি নেতাকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি একজন অপাহাড়িকে প্রতিমন্ত্রীর পদে রাখা হয়েছে। তাদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করেছিল। সেই সংলাপের ধারাবাহিক ফল হিসেবেই ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বিবৃতিদাতারা আরও বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এসে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য জেলার তিনটি আসনে পাহাড়ি ভোটাররা বিপুল ভোটে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছেন। এতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিএনপির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে বলে তারা মনে করেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএনপি তাদের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে বহুজাতির ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ বিএনপির এই ‘রেইনবো নেশন’ ধারণাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। এই ধারণার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে দপ্তর পুনর্বণ্টন করা জরুরি বলে মত দেন তারা।

বিবৃতিদাতারা আশা প্রকাশ করেন, ২০০১ সালে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যেভাবে রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা রেখেছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজীদ আংশিক) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় স্থান পান।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ