ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নবনির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সরাইল উপজেলায় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণে বাধা ও হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি স্থানীয় বিএনপির একাংশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে দলটির উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে মহান ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সরাইল শহীদ মিনারে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী রুমিন ফারহানা ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার পরপরই তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা জানান।
রুমিন ফারহানা বলেন, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে রাত ১২টা ১ মিনিটে সবার আগে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের অধিকার ছিল তাঁর। কিন্তু সেই সাংবিধানিক ও প্রটোকলগত অধিকার উপেক্ষা করে তাঁর পথ রোধ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর শারীরিকভাবে হামলা চালানো হয় এবং পুরো পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তপ্ত করা হয়।
এই ঘটনাকে তিনি ‘পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত’ এবং ‘ভয়ংকর হিংস্রতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার মানসিক চাপ ও রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকেই একটি গোষ্ঠী এই সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোটি কোটি টাকার লেনদেন ব্যর্থ হওয়া এবং ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার হতাশা থেকেই গুন্ডা প্রকৃতির লোকজন এই তাণ্ডব চালিয়েছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মতো একটি পবিত্র মুহূর্তেও যদি রাজনৈতিক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিও অবমাননা।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিএনপির প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, দলটি যদি স্থানীয় পর্যায়ে তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এখনই যদি দল ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় উশৃঙ্খল ও সহিংস আচরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তা বিএনপির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ করা বিএনপির জন্য জরুরি। সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা দিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ মোকাবিলা করলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। এতে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভাষা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে এমন ঘটনা রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি উদ্বেগজনক দিক তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক মর্যাদা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি এই ঘটনাকে শুধু ব্যক্তিগত আঘাত হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কৃতির সংকট হিসেবে তুলে ধরছেন। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগের পর বিএনপি কী ধরনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেয়।