মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও স্পষ্টভাবে পড়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। সর্বশেষ শনিবার (১৪ মার্চ) আরও ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোতে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপরও।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পরিস্থিতির কারণে ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি বাতিল হয়েছিল ২৩টি ফ্লাইট। এরপর ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
এরপরের দিনগুলোতেও একই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে। ৪ মার্চ বাতিল হয় ২৮টি ফ্লাইট, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি এবং ৭ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট। ৮ মার্চও বাতিল হয় ২৮টি ফ্লাইট। এরপর ৯ মার্চ বাতিল হয় ৩৩টি ফ্লাইট।
এর ধারাবাহিকতায় ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ১১ মার্চ বাতিল হয় ২৭টি এবং ১২ মার্চ বাতিল হয় ২৮টি ফ্লাইট। এরপর ১৩ মার্চ বাতিল হয় ২৫টি ফ্লাইট। সর্বশেষ শনিবার, ১৪ মার্চ বাতিল হয়েছে আরও ২৪টি ফ্লাইট।
সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪৭৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে বেবিচক। এই বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের গন্তব্যে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল।
শনিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। এর মধ্যে কুয়েতগামী দুটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহগামী এয়ার অ্যারাবিয়ার দুটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বাহরাইনের গালফ এয়ারের চারটি ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। একইভাবে কাতার এয়ারওয়েজের চারটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস এয়ারলাইনসের চারটি ফ্লাইটও বাতিলের তালিকায় রয়েছে।
এছাড়া কুয়েতের জাজিরা এয়ারওয়েজের চারটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্লাইদুবাইয়ের চারটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শনিবার মোট ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বিমান চলাচল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প রুট ব্যবহার করাও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। নিরাপত্তা বিবেচনায় অনেক এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।
এই পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ভোগান্তিও বেড়েছে। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় নতুন করে যাত্রার পরিকল্পনা করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের যাতায়াতেও এর প্রভাব পড়ছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। আকাশসীমা খুলে দেওয়া এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ওপরই নির্ভর করছে স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হওয়া।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল যে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে, ঢাকার বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক