ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) জগন্নাথ হলে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তিনজনকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম অভয় কুমার সিংহ। তিনি বাংলা বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যায় তিনি জগন্নাথ হল এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। হাঁটুর সমস্যার কারণে তিনি পা তুলে বসেছিলেন বলে দাবি করেন।
ঘটনার সময় জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা—চন্দন দাস, ঝলক দাস ও রিপন চন্দ্র সরকার—তাকে পা নামিয়ে বসতে বলেন। এ নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয় এবং পরে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরবর্তীতে তিনি নিজের কক্ষে ফিরে গেলে অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে তাকে মারধর ও থাপ্পড় দেন। একইসঙ্গে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
তবে অভিযুক্তরা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ঘটনাটি শুধুমাত্র কথা-কাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং কোনো ধরনের শারীরিক হামলা হয়নি। তারা জানান, বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যেই তারা শিক্ষার্থীর কক্ষে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনার পরপরই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দায়িত্বশীল পদে থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জগন্নাথ হল শাখার তিন নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, জগন্নাথ হল প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আলাদা করে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।
হল সংসদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তদের ভুক্তভোগীর কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
হল প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক