সৌদি আরবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে ১০০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো বিরল বুনো গাধা বা ওনাগারের জন্ম হয়েছে। এই ঘটনাকে দেশটির পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রচেষ্টায় একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ওনাগার, যাকে এশীয় বুনো গাধা বলা হয়, তার বৈজ্ঞানিক নাম Equus hemionus। এটি এশিয়ার আদি বন্যপ্রাণীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি, যা ঘোড়ার তুলনায় ছোট হলেও আকারে গৃহপালিত গাধার কাছাকাছি। এদের দেহে ফ্যাকাসে রঙ ও খাড়া কেশর থাকে, যা তাদের সহজেই চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
সৌদি আরবের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভ জানিয়েছে, তাদের ‘অ্যারাবিয়ান রিওয়াইল্ডিং’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের জুন মাসে একটি পুরুষ ওনাগার জন্ম নেয়। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আরব উপদ্বীপের বিলুপ্ত ও বিলুপ্তপ্রায় ২৩টি স্থানীয় প্রাণী প্রজাতিকে আবারও তাদের ঐতিহাসিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে আনা।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্য পরিবেশে ৬০০টিরও কম ওনাগার টিকে আছে। এদের দ্রুত হ্রাসমান সংখ্যা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে ২০২৫ সালে প্রজাতিটিকে ‘মহাবিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদির সংরক্ষণ উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ‘অ্যারাবিয়ান রিওয়াইল্ডিং’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রজাতিটির সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, যাতে ভবিষ্যতে এটি প্রাকৃতিক পরিবেশে টিকে থাকতে পারে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত এলাকায় ওনাগারের প্রজনন ও জিনগত বৈচিত্র্য রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে জর্দান থেকে একটি স্ত্রী ওনাগার আনার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা প্রজনন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগ শুধু একটি প্রজাতি সংরক্ষণ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। আরব উপদ্বীপে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের পুনরায় ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সফল প্রজনন কর্মসূচি ভবিষ্যতে অন্যান্য বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে, শত বছরের বিরতির পর ওনাগারের জন্ম সৌদি আরবের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক