রাঙামাটিতে এনসিপির সাংগঠনিক সংকট, ৮৭ নেতাকর্মী পদত্যাগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রাঙামাটিতে এনসিপির সাংগঠনিক সংকট, ৮৭ নেতাকর্মী পদত্যাগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 10, 2026 ইং
রাঙামাটিতে এনসিপির সাংগঠনিক সংকট, ৮৭ নেতাকর্মী পদত্যাগ ছবির ক্যাপশন:

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়কসহ কমিটির সকল সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত এক বিশেষ জরুরি সভায় উপজেলার ৮৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা ইতিমধ্যে লিখিত পদত্যাগপত্র জেলা কমিটির কাছে জমা দিয়েছেন।

পদত্যাগের পেছনে মূলত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট এবং অন্য একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এনসিপির জোটগঠনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করা হচ্ছে। পদত্যাগকারী নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের জোট সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক অবস্থান তাদের আদর্শ ও মূলনীতির সঙ্গে মিলছে না। ফলে তারা সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে আর আগ্রহী নন।

উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা জানান, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি তাদের কমিটি অনুমোদন পেয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনী জোট গঠনের পর তাদের মনে হয়েছে দলটি মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। জুরাছড়িতে এই গণপদত্যাগের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা বলেন, তিনি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্থানীয় সূত্র থেকে জানতে পেরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পদত্যাগের জন্য নির্দিষ্ট সাংগঠনিক নিয়ম অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। জোট গঠনের কারণে পদত্যাগ হলে তা নির্বাচনের আগে হওয়া উচিত ছিল।

মনজিলা ঝুমা অনুমান করছেন, নির্বাচনের পর পদত্যাগের এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের চাপ থাকতে পারে। তবে জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, কোনো চাপের মুখে নয়, বরং আদর্শিক ভিন্নতার কারণে তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগকারী নেতাকর্মীরা মনে করছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের বর্তমান গতিপথ তাদের গ্রহণযোগ্য নয়। এই কারণে একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পদত্যাগ পার্বত্য অঞ্চলে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং দলটির রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস করতে পারে।

এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে যায় যে রাজনৈতিক আদর্শ, দলীয় নীতি এবং সাংগঠনিক স্বাতন্ত্র্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত একটি দলের ভেতরের ঐক্য ও নীতি-প্রধানতার সাথে সম্পর্কিত। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এনসিপির এই পদত্যাগ পার্বত্য এলাকায় রাজনৈতিক ভারসাম্য ও দলের ভেতরের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

পদত্যাগের ফলে জুরাছড়ি উপজেলায় এনসিপির নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হবে। স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রম ও জনপ্রিয়তা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং জোট-নীতির প্রভাবও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্পষ্টভাবে অনুভূত হবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এনসিপির তৃণমূল পর্যায়ের এই পদত্যাগ পার্বত্য অঞ্চলে দলের কার্যক্রমকে নতুনভাবে পুনঃগঠন করতে বাধ্য করবে। পদত্যাগের ফলে রাজনৈতিক শক্তি এবং দলের আদর্শের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি হয়ে দাঁড়াবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইসলামের নামে প্রতারণা করছে জামায়াত-শিবির: শীর্ষ ওলামায়ে কেরা

ইসলামের নামে প্রতারণা করছে জামায়াত-শিবির: শীর্ষ ওলামায়ে কেরা