ইরানের রাজধানী তেহরানে সোমবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাতকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ রাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। রাতজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল তেহরান থেকে জানিয়েছেন, গত কয়েক ঘণ্টায় এত বেশি বিস্ফোরণ ঘটেছে যে সেগুলোর সংখ্যা গণনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বড় বড় বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর কেঁপে ওঠে এবং এমনকি আল-জাজিরার অফিসের জানালাও কাঁপতে দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরানের উত্তরের কারাজ এলাকাতেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, এসব হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার রাতে তেহরানের আকাশে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে পূর্ব তেহরানের আকাশে একাধিকবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আলোর ঝলকানি দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, রাতভর বিস্ফোরণ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের কারণে পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শুধু তেহরানেই নয়, ইরানের অন্যান্য শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসফাহান শহরে তীব্র বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে গভর্নরের কার্যালয় এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবরিজ অঞ্চল থেকেও বিস্ফোরণের খবর এসেছে। কিছু সূত্র দাবি করছে, ইসফাহানে হওয়া বিস্ফোরণগুলোর কিছু পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি এলাকায় ঘটেছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) পূর্বে জানিয়েছিল, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ ইসফাহানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে এসব স্থাপনার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনী এবং রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর পাল্টা প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে। তারা তাদের ঘোষিত সামরিক অভিযানের “৩৩তম তরঙ্গ” শুরু করার কথা জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে তারা এক হাজার কেজির কম ওজনের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে না। রেভোল্যুশনারি গার্ডসের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কিছু ইসরায়েলের দিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আরও ভারী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক এই হামলা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ফলে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
কসমিক ডেস্ক