কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত টোল থেকে প্রথমবারের মতো আয় পেয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্য অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত টোল থেকে প্রাপ্ত প্রথম অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে। তবে ঠিক কত পরিমাণ অর্থ এই খাতে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। স্বাভাবিক অবস্থায় বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর মাধ্যমে শুধু জ্বালানি নয়, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে যায়।
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই প্রণালি আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে সীমিত সংখ্যক জাহাজকে এই রুট ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। এই জলপথটি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্টে টোল আরোপের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দেশটির নিরাপত্তা কমিশন গত ৩০ মার্চ এই পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল। তবে চূড়ান্ত সংসদীয় ভোট সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আগের মতো স্বাভাবিক থাকবে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি এবং তেল পরিবহন খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ৩০টিরও বেশি দেশের সামরিক পরিকল্পনাবিদরা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা বাধা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের টোল থেকে আয় শুরু হওয়া বিষয়টি ভবিষ্যতে আরও বড় ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক