জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রসমাজ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে রাজনৈতিক নেতারা তার সুফল ভোগ করছেন—এমন অভিযোগ করেছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক হিসেবে বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া যদি সংসদে সম্পন্ন না হয়, তবে সেই লড়াই আবারও রাজপথে গড়াবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “সংসদে যদি কথা বলার পরিস্থিতি না থাকে, তবে রাজপথেই ফয়সালা হবে। সেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ছাত্রসমাজের আত্মত্যাগ ও সাহসের ফল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই আন্দোলনের অর্জনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “ছাত্ররা দায়িত্ব নিলেও এখন রাজনৈতিক নেতারা ফল ভোগ করছেন।”
এনসিপির এক বছর পূর্তি প্রসঙ্গে তিনি আত্মসমালোচনাও করেন। বলেন, “এক বছরের পথচলায় আমাদের অনেক ভুল-ত্রুটি ছিল। কিন্তু আমাদের অস্তিত্বের মূলে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান।” তিনি উল্লেখ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিকড় থেকেই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতির আদর্শ ধারণ করে এনসিপির পথচলা শুরু হয়েছিল।
তার বক্তব্যে উঠে আসে গণভোট ও সংস্কার পরিষদের প্রসঙ্গও। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক নেতারা গণভোটের দোহাই দিয়ে সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন। এতে সংস্কার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বাধা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনীহা ও জটিলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয় বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “যেভাবে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছিল, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।” তার মতে, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, রাজপথের আন্দোলন কোনো লক্ষ্য নয়, বরং প্রয়োজন হলে সেটিই হবে শেষ ভরসা। সংসদ যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণই আবার আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি আদায় করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান। তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংস্কার প্রক্রিয়া ও সংসদের ভূমিকা নিয়ে আগামী দিনে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবশেষে তিনি বলেন, “আমরা সংঘাত চাই না, কিন্তু ন্যায়বিচার ও সংস্কারের প্রশ্নে আপস করব না।” তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয়—সংসদে সমাধান না এলে রাজপথের রাজনীতিই হতে পারে আগামী দিনের প্রধান বাস্তবতা।
কসমিক ডেস্ক