যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান জন ফেলান পদত্যাগ করেছেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, তার এই পদত্যাগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে BBC এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ফেলানের পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আপাতত দায়িত্ব পালন করবেন হাং কাও, যিনি বর্তমানে নৌবাহিনীর উপ-সচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন ভিত্তিতে এই দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রশাসনে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পদত্যাগ বা অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। জন ফেলানের পদত্যাগ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অবরোধ পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক সংঘাত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যদিও নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, তবে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ নির্মাণসংক্রান্ত ইস্যুতে প্রশাসনের ভেতরে মতবিরোধের জেরে এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
শন পারনেল এক বিবৃতিতে বলেন, জন ফেলানের দীর্ঘদিনের সেবার জন্য প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী তার প্রতি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানানো হয়েছে।
এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র্যান্ডি জর্জ–কে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডেভিড হডনে এবং উইলিয়াম গ্রিন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পিট হেগসেথ এক ডজনের বেশি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে অপসারণ করেছেন। এতে সামরিক নেতৃত্বে একটি বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব মূলত প্রশাসনিক হলেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। এর আওতায় নীতিনির্ধারণ, জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম সরবরাহ, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং নৌযান নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে নৌবাহিনীর নেতৃত্বে পরিবর্তন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধানের পদত্যাগ বৈশ্বিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর থাকবে নতুন নেতৃত্বের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল কীভাবে এগিয়ে যায়, তার ওপর।
কসমিক ডেস্ক