পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় নির্মিত একটি আধুনিক বহুতল বিপণিবিতান দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চালু না হওয়ায় সরকারি সম্পদ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই তিনতলা মার্কেটটি “ফিশ মার্কেট” নামে পরিচিত হলেও এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মার্কেটটি চালু না হওয়ায় সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বাধ্য হয়ে সড়ক ও ফুটপাতে দোকান বসাতে হচ্ছে, যার ফলে মঠবাড়িয়া-ঢাকা-পাথরঘাটা মহাসড়কে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়।
এতে সাধারণ পথচারী, যানবাহন চলাচলকারী এবং বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহনে চরম ভোগান্তি দেখা দিচ্ছে। এলাকাবাসীর মতে, পরিকল্পিত বাজার চালু থাকলে সড়কে এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মার্কেটটিতে মোট ৮৬টি দোকান বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে ২০১৮ সালে নির্মাণ শেষ হলেও সেটি এখনো কার্যক্রমে আসেনি।
একজন পৌর কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মার্কেটটি চালুর জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে তা থেমে যায়। তিনি আরও বলেন, মার্কেট চালুর বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, নির্দিষ্ট স্থানে বসার সুযোগ না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর দোকান বসাচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত মালামাল নষ্ট হচ্ছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তাদের বারবার ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
মঠবাড়িয়া বণিক সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম অভিযোগ করেন, নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও নানা জটিলতায় মার্কেটটি চালু হয়নি। তার দাবি, পূর্ববর্তী সময়ে স্টল বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। বর্তমানে আবারও নতুন করে বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, মার্কেটটি চালু হলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা স্থায়ী জায়গা পেতেন, অন্যদিকে সড়ক থেকে দোকান সরিয়ে যানজটও কমানো যেত।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক সময় তা জনসাধারণের কাজে আসে না। মঠবাড়িয়ার এই মার্কেট তারই একটি উদাহরণ।
এদিকে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আকলিমা আক্তার জানান, মার্কেটটি উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইজারা প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খুব শিগগিরই মার্কেটটি চালু করা সম্ভব হবে এবং তখন সড়ক দখলমুক্ত করে যানজট কমানো হবে।
অন্যদিকে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ জানান, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি কমিটি কাজ করছে এবং শিগগিরই মার্কেটটি চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা এই ফিশ মার্কেট এখন শুধু সরকারি সম্পদের অপচয় নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও যানবাহন ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কসমিক ডেস্ক