কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারে খাজনার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফুর রহমান।
পুলিশ জানায়, বাজারে নির্ধারিত ১০০ টাকার খাজনার পরিবর্তে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছিল—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযুক্তদের কথিত মূলহোতা হুমায়ূন কবির ও শাকিল হোসেন শাহীনকে আটক করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা মোকাম ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—আব্দুর রব (৪৭), আবুল বাশার (৪৮), জাকারিয়া ইসলাম (২৮), আনোয়ার (৪২), বিল্লাল হোসেন (৪৫), নেসার উদ্দিন (৩৭), মোহাম্মদ ইব্রাহিম (২৭), সাব্বির হোসেন (২১) ও মো. জুয়েল (৩৬)। তাঁদের সবার বাড়ি বুড়িচং ও আশপাশের এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালেক-এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বাজার এলাকায় কয়েকজনকে খাজনা আদায়ের অভিযোগে হাতেনাতে আটক করা হয়।
নিমসার বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ইজারার নামে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছিল। তাঁদের ভাষ্য, “১০০ টাকার জায়গায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। মুখ খুলে কিছু বলতে পারি না।”
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন জানান, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওসি লুৎফুর রহমান বলেন, “অভিযোগ ছিল কয়েক দিন ধরে খাজনার নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”
স্থানীয়দের দাবি, বাজার ইজারা নেওয়ার পরও কিছু ব্যক্তি নিয়মের বাইরে গিয়ে মহাসড়কসংলগ্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছিলেন। এতে ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মহাসড়ক ও বাজার এলাকায় অবৈধ অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে নজরদারি বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক