গ্রাহকস্বার্থে চালু হলেও সফল হয়নি এমএনপি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গ্রাহকস্বার্থে চালু হলেও সফল হয়নি এমএনপি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 18, 2026 ইং
গ্রাহকস্বার্থে চালু হলেও সফল হয়নি এমএনপি ছবির ক্যাপশন:
ad728

মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে স্থানান্তরের সুবিধা দিতে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে চালু হয় মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা। এই সেবার মূল লক্ষ্য ছিল গ্রাহকদের পছন্দের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান উন্নয়নে বাধ্য করা। তবে আট বছর পেরিয়ে গেলেও এই সেবা বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারেনি।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এমএনপিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেগুলেটরি টুল হিসেবে উল্লেখ করলেও বাস্তবে এর কার্যকর প্রয়োগ চোখে পড়েনি। উন্নত বিশ্বে এমএনপি সেবা গ্রাহক ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম হলেও বাংলাদেশে এটি এখনো সীমিত পরিসরে রয়ে গেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমএনপি সেবা জনপ্রিয় না হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ নীতিগত ও আর্থিক বাধা। বিটিআরসির নির্দেশনার কারণে মোবাইল অপারেটররা এমএনপি গ্রাহকদের জন্য কোনো ধরনের প্রণোদনা দিতে পারছে না। অথচ অন্যান্য দেশে অপারেটররা ফ্রি পোর্টিং, বোনাস ডাটা কিংবা কল রেট ছাড়ের মতো সুবিধা দিয়ে গ্রাহকদের উৎসাহিত করে থাকে।

অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আরোপিত উচ্চ কর এমএনপি সেবাকে ব্যয়বহুল করে তুলেছে। বর্তমানে একজন গ্রাহককে এমএনপি সেবা নিতে প্রায় ৪৫০ টাকা খরচ করতে হয়, যা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য অত্যন্ত বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে যেখানে ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে এই সেবা পাওয়া যায়, সেখানে বাংলাদেশে উচ্চ ব্যয় গ্রাহকদের নিরুৎসাহিত করছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে সিম কর পুনর্বহালের পর এমএনপি ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যদিও একসময় কর মওকুফের ফলে পোর্টিং সংখ্যা বাড়ছিল, তবে সেই সুবিধা বাতিল হওয়ায় গ্রাহকদের আগ্রহ কমে গেছে।

এমএনপি নম্বর ব্যবহারকারীদের আরেকটি বড় সমস্যা হলো মাস্কিং এসএমএস গ্রহণে সীমাবদ্ধতা। বিটিআরসির একটি নির্দেশনার কারণে এমএনপি গ্রাহকরা অনেক আর্থিক ও গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে মাস্কিং এসএমএস পান না। এতে ব্যাংকিং, আর্থিক লেনদেন ও সামাজিক যোগাযোগ সংক্রান্ত কাজে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

প্রযুক্তিবিদ তানভীর জোহা বলেন, এমএনপি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে জনগণের অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় কমানো সম্ভব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী জানান, এমএনপি সেবার জন্য একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এবং বিষয়টি কমিশনের নজরে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমএনপি সেবাকে কার্যকর করতে হলে পোর্টিং ও ডিপিং উভয় দিকই সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। নীতিগত সংস্কার, কর হ্রাস এবং গ্রাহকবান্ধব সিদ্ধান্ত ছাড়া এই সেবার সফলতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মতপ্রকাশের চেয়েও বড় সংকট এখন জীবন রক্ষা: মাহফুজ আনাম

মতপ্রকাশের চেয়েও বড় সংকট এখন জীবন রক্ষা: মাহফুজ আনাম