চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাড়ির শৌচাগার থেকে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ভাটেরহৃদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নারী নুরজাহান বেগম (৫০) কুয়েতপ্রবাসী আবুল কালামের স্ত্রী। তাদের চারটি সন্তান রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বাড়ির শৌচাগারে নুরজাহান বেগমের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মেয়ে সুলতানা তানহা জানান, সকালে তিনি কলেজে যান। দুপুরে বাড়িতে ফিরে দেখেন তাদের বিল্ডিংয়ের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পরও মায়ের কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পাশের আত্মীয়ের বাসায় যান। কিছুক্ষণ পর আবার বাড়ির সামনে এসে দেখেন দরজা খোলা। ঘরে ঢুকে টয়লেটে গলাকাটা অবস্থায় মায়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
তিনি বলেন, “আমি চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। পরে আমরা মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, নুরজাহান বেগম বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। প্রায়ই দেখা যেত, এনজিও কর্মীরা টাকা আদায়ের জন্য তাদের বাড়িতে আসতেন। ঘটনার দিন সকালেও কিছু লোক টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে বাড়িতে এসেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে কোন এনজিওর লোকজন এসেছিলেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ-এর পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, মৃতের গলায় গভীর কাটা জখমের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। আশপাশের লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ঋণের চাপ, পারিবারিক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা সামনে এলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
কসমিক ডেস্ক