পার্বত্য অঞ্চলকে বাদ দিলে উন্নয়ন অসম্ভব: পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পার্বত্য অঞ্চলকে বাদ দিলে উন্নয়ন অসম্ভব: পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 17, 2026 ইং
পার্বত্য অঞ্চলকে বাদ দিলে উন্নয়ন অসম্ভব: পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ছবির ক্যাপশন:

পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটি মারী স্টেডিয়ামে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জল উৎসবের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রামকেও এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।”

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৩টি জাতিগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রেখেছে। তবে কিছু জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও পরিচয় বর্তমানে অস্তিত্বসংকটে রয়েছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ কারণে তাদের সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

উৎসবটি আয়োজন করে মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস)। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি শুধু দেশের নয়, বিশ্ব দরবারেও তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলার প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জোন কমান্ডার লে. কর্নেল একরামুল রাহাত, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টোসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

উৎসবের শুরুতে পার্বত্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সাংগ্রাই জল উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এরপর পুরো দিন জুড়ে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন চলতে থাকে। মারমা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন, যা তাদের জীবনধারা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবে মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে অংশ নেন। তারা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন। তাদের বিশ্বাস, এই পানি ছিটানোর মাধ্যমে পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যায় এবং নতুন বছরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে।

এক তরুণী মেচিংহলা মারমা বলেন, “আমরা পানি ছিটিয়ে নতুন বছরকে বরণ করি। এতে পুরোনো বছরের সব দুঃখ দূর হয়ে যায় এবং নতুন বছরে সুখ-শান্তি আসে—এমন বিশ্বাস থেকেই এই আয়োজন।”

আরেক তরুণী উনুচিং মারমা জানান, এই দিনের জন্য তারা সারা বছর অপেক্ষা করেন। সবাই মিলে আনন্দ করার পাশাপাশি নতুন বছরের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করেন তারা।

মারমা সংস্কৃতি সংস্থার আহ্বায়ক পাইচিং মং মারমা বলেন, এই আয়োজন তাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং পারস্পরিক সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি আরও জোরদার করাই মূল লক্ষ্য।

সারাদিনব্যাপী উৎসবে আনন্দ, নৃত্য, গান এবং ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাঙামাটির মারমা জনগোষ্ঠী তাদের সংস্কৃতি উদযাপন করে। এই আয়োজন পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরেছে বলে আয়োজকরা মনে করেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচন নিয়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকায় সন্তুষ্ট জামায়াত আমির

নির্বাচন নিয়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকায় সন্তুষ্ট জামায়াত আমির