হামলা হলে পাল্টা আঘাতের ঘোষণা ইরানের জাতিসংঘ দূতের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হামলা হলে পাল্টা আঘাতের ঘোষণা ইরানের জাতিসংঘ দূতের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 20, 2026 ইং
হামলা হলে পাল্টা আঘাতের ঘোষণা ইরানের জাতিসংঘ দূতের ছবির ক্যাপশন:

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অর্থবহ চুক্তিতে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ‘খুব খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে হামলা হলে সব জায়গায় পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ওয়াশিংটনে এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে, কিন্তু ইরানকে অবশ্যই একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গাজার বোর্ড অব পিসের এক সম্মেলনে তিনি এ সময়সীমা বেঁধে দেন। তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক পথই অগ্রাধিকার, তবে প্রয়োজনে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী দূত Amir Saeid Iravani সংস্থাটির মহাসচিব António Guterres-এর কাছে লেখা এক চিঠিতে বলেন, ইরানে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু তাদের ওপর হামলা হলে এর জবাব দেওয়া হবে এবং এর দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, তারা তাদের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ইরানে সীমিত আকারে হামলা চালাতে পারে। এতে লক্ষ্য করা হতে পারে সরকারি ভবন ও নিরাপত্তাবাহিনীর অবকাঠামো। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর মাধ্যমে ইরানকে পরমাণু চুক্তিতে রাজি করাতে চাপ সৃষ্টি করা হবে। এরপরও যদি ইরান শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে ব্যাপক আকারে হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে এমনও উল্লেখ করা হয়েছে, বড় আকারের হামলার লক্ষ্য হতে পারে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সরকারের পতন ঘটানো। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমাবেশ এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারির ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের কঠোর বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পক্ষ। আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন বিশ্বরাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আয়ের হিসাবে স্ত্রী এগিয়ে, হলফনামায় বিস্তারিত শিশির মনিরের

আয়ের হিসাবে স্ত্রী এগিয়ে, হলফনামায় বিস্তারিত শিশির মনিরের