দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যার ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ও আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলাগুলোর একটি হয়েছে টাইর শহরের বাইরে শামা এলাকার সামনের একটি পাহাড়ি অঞ্চলে। হামলার পর সেখানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং দূর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
এর কিছুক্ষণ আগেই বিনতে জবেইল জেলার কাফরা শহরের দিকেও আরেকটি বিমান হামলা চালানো হয়। ধারাবাহিক এই হামলার ফলে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও অবস্থান। তবে স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, হামলার অনেকগুলোই বেসামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর একটি জাবাল আমেল হাসপাতালের আশপাশে হামলার ঘটনা নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি হাসপাতালের নিকটবর্তী একটি ব্যাংক ভবনে হামলা চালানো হয়। এর আগে হাসপাতালের বিপরীতে থাকা একটি আবাসিক ভবনও বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়, যার প্রভাব হাসপাতালের অবকাঠামোর ওপরও পড়ে।
স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, যদিও হাসপাতালকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি, তবে বারবার নিকটবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক রোগী ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার আশঙ্কায় হাসপাতালে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে টাইর শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর বহু মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে গেলেও অনেকেই এখনো নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাদের মতে, প্রতিদিনই হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি কৌশলগত উঁচু স্থানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বর্তমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে সীমান্ত অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক