মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে এবং ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হানতে থাকে।
এই টানা সংঘাতের ফলে গোটা অঞ্চল এখন অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে একের পর এক হামলা চালিয়েও ইরানকে পুরোপুরি দমন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। বরং পাল্টা হামলায় মার্কিন সামরিক শক্তিও ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এবার আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে উন্নত ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
বিশেষ করে জেএএসএসএম-ইআর (JASSM-ER) নামের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্চের শেষ দিক থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মোতায়েন শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে বিপুলসংখ্যক জেএএসএসএম-ইআর ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার একটি বড় অংশ ইরানের দিকে লক্ষ্য করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। প্রায় ১০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও এটি সফলভাবে আঘাত করতে সক্ষম।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাঝারি পাল্লার জেএএসএসএম ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে, যা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশ ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ইরান কর্তৃক মার্কিন দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এই ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন এবং একই সঙ্গে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি আলোচনায় না আসে, তাহলে আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এই হুঁশিয়ারির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের খবর সামনে আসায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তাও জোরালো হয়ে উঠেছে। অন্যথায় এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক