বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে এবং সারাদেশে একই মূল্যে স্বর্ণ বিক্রি হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ও ১৮ ক্যারেটের দামও সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা।
এর আগে, ৩১ মার্চে বাজুস দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেই সময়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা। নতুন দাম প্রণয়নের মাধ্যমে আগের সমন্বয়ের চেয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিময় হারের পরিবর্তন এবং স্থানীয় চাহিদার প্রভাবের কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ক্রেতাদের জন্য এটি সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বাজারে স্বর্ণের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা চলতে থাকলে সাম্প্রতিক সময়ের জন্য সোনার বিনিয়োগকারীদের ও সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিবেচনা করতে হবে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠা-নামার প্রভাব সরাসরি দেশীয় বাজারের দামের ওপর পড়ছে।
বাজুসের নিয়মিত মূল্য সমন্বয় দেশের বাজারকে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সোনার ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের সচেতন করার পাশাপাশি চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নজর রাখছেন।
মোটকথা, ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে দেশজ বাজারে সোনার লেনদেন ও বিনিয়োগ পরিকল্পনায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। ক্রেতাদের এখন বাজার পরিস্থিতি মনিটর করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক