মুখের ভেতরে বা ঠোঁটের পাশে ছোট ছোট ঘা দেখা দেওয়া একটি সাধারণ শারীরিক সমস্যা, যা অনেক মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় অনুভব করেন। খেতে গেলে জ্বালা, ব্যথা বা অস্বস্তি এই সমস্যার প্রধান লক্ষণ। চিকিৎসকদের মতে, মুখের ঘা বা আলসার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর নয় এবং এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, মুখের ঘা সব সময় সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অসুখের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা দিতে পারে। তাই বিষয়টি হালকাভাবে না নিয়ে লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মুখের ঘা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি। এছাড়া খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত গাল বা জিহ্বায় কামড় লেগে যাওয়া, অতিরিক্ত ঝাল বা মসলাযুক্ত খাবার গ্রহণ, শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন এবং ভিটামিন ও খনিজের সামান্য অভাবও এই সমস্যার কারণ হতে পারে।
অনেক সময় মৌসুমি পরিবর্তন, হরমোনের ওঠানামা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাময়িক দুর্বলতার কারণেও মুখে ঘা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে মুখের ঘা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেরে গেলে উদ্বেগের কারণ নেই। তবে কিছু পরিস্থিতিতে সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি। যেমন—ঘা যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, বারবার ফিরে আসে, আকারে বড় হতে থাকে বা ঘা থেকে রক্তপাত হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এছাড়া মুখে ক্রমাগত ব্যথা, খাবার গিলতে সমস্যা, অকারণ ওজন কমে যাওয়া, জ্বর বা অতিরিক্ত দুর্বলতা থাকলেও এটি শরীরের গভীর কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, বারবার মুখে ঘা হওয়া অনেক সময় শরীরে ভিটামিন বি১২, আয়রন বা ফোলেটের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দুর্বলতা, দীর্ঘমেয়াদি মেটাবলিক সমস্যা বা অন্যান্য ক্রনিক রোগের প্রাথমিক লক্ষণও মুখে প্রকাশ পেতে পারে।
অনেকে মুখের ঘা হলে ঘরোয়া উপায় বা বাজারে পাওয়া জেল ব্যবহার করে সাময়িক আরাম পান। তবে চিকিৎসকদের মতে, এতে শুধু উপসর্গ কমে, মূল কারণ ঠিক হয় না। তাই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মুখের ঘা দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়া মানেই যে তা গুরুতর রোগ, এমন নয়। তবে এর সময়কাল, পুনরাবৃত্তি এবং অন্যান্য লক্ষণ বিবেচনা করা জরুরি। কারণ সময়মতো রোগ নির্ণয় না হলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং মানসিক চাপ কমানো মুখের ঘা প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
কসমিক ডেস্ক