দীর্ঘ ১১ মাসের অনুসন্ধান শেষে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার মধ্যরাতে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দুর্নীতি ইস্যু নিয়ে একটি প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এনসিপির বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে, তার মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনটি প্রমাণিত হয়েছে—এ প্রশ্ন তিনি সবার সামনে রাখতে চান।
তার এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মন্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন।
একজন মন্তব্য করে লেখেন, সত্যের পথে থাকলে জনগণের সমর্থন পাওয়া সম্ভব এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনও আসতে পারে। অন্য একজন মন্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনে তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এর আগে একই দিনে ফেসবুক পোস্টে মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি পোস্টে অনুসন্ধান-সংক্রান্ত নথিও সংযুক্ত করেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার পর উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি প্রথমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে এবং পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন তদবির ও ব্যক্তিগত সুবিধা দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি হয়। তিনি দাবি করেন, এসব অনৈতিক অনুরোধে সাড়া না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং এক পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের তদবির-বাণিজ্যের অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
মোয়াজ্জেম হোসেন আরও বলেন, দুদকের অনুসন্ধান চলাকালে তিনি সংস্থাটিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন। তবে এ সময় তাকে এবং তার পরিবারকে সামাজিক ও মানসিকভাবে নানা ধরনের চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি দুদকের অনুসন্ধান ও নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত নথিপত্র সংযুক্ত করে সবার কাছে দোয়া চান এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
কসমিক ডেস্ক