অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত হতো প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে: এম সাখাওয়াত হোসেন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত হতো প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে: এম সাখাওয়াত হোসেন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 28, 2026 ইং
অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত হতো প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে: এম সাখাওয়াত হোসেন ছবির ক্যাপশন:

সদ্য সমাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী নীতি-নির্ধারণ ও বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেট বা উপদেষ্টা পরিষদের আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে নেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তার দেড় বছরের অভিজ্ঞতা থেকে সরকারের অজানা কিছু অধ্যায় উন্মোচন করেন।

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও ২০০৭–২০১২ সালের নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে থাকলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অজ্ঞাত ছিলেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন পদ্ধতি বা রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে সরকার আমার পরামর্শ চায়নি। আমি কেবল একজন পর্যবেক্ষক ছিলাম, কনসালট্যান্ট নই।”

সাক্ষাৎকারে তিনি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা প্রভাবশালী মহলের অস্তিত্বের কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, বড় সিদ্ধান্তগুলো ২৭ জনের উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হওয়ার আগেই বাইরে নির্ধারিত হতো। বিশেষ করে নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা তাকে সরাসরি জানানো হয়নি, তবে তিনি শুনেছেন একটি নির্দিষ্ট পক্ষ সময়ক্ষেপণ করতে চেয়েছিল। তবুও ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।

২০২৪ সালের অগাস্টে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি পুলিশ ব্যবহৃত ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ বোরের রাইফেল এবং এর যথেচ্ছ ব্যবহারের বিষয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা করে আলোচিত হয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে পুনরায় তিনি বলেন, “ভিডিওতে দেখেছি লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা ব্যক্তিদের হাতে পুলিশের রাইফেল ছিল। এমনকি হেলিকপ্টারে থাকা স্নাইপারদের অনেকের চেহারা সাধারণ মানুষের মতো ছিল না।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই অস্ত্র এবং স্নাইপাররা হয়তো ‘বহিরাগত’ ছিলেন। তবে তদন্তের সুযোগ পাওয়ার আগেই মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শ্রম ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

সাখাওয়াত হোসেন জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত-আট দিনের মধ্যে তিনি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছিলেন, “আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না, থাকলে আপনিও বিব্রত হবেন।” তবে প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধ ও আশ্বাসে তিনি শেষ পর্যন্ত থেকে যান।

২০০৭–২০১২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই বিশেষজ্ঞ ২০২৪ সালের অগাস্টে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম সদস্য ছিলেন। বর্তমানে দেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এই অভিজ্ঞতাগুলো জনসমক্ষে এনেছেন।

এই সাক্ষাৎকারে এম সাখাওয়াত হোসেন যে তথ্যগুলো তুলে ধরেছেন, তা অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম ও প্রভাবশালী মহলের গোপন নীতি-নির্ধারণ নিয়ে জনগণের সামনে নতুন আলো ফেলে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পিছনে আনুষ্ঠানিক পরামর্শের অভাব এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ অগোছালো প্রক্রিয়া ছিল। এছাড়া তিনি পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের অস্বাভাবিক দিকগুলোর বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছেন।

সারসংক্ষেপে, সাবেক উপদেষ্টার এই অভিজ্ঞতা দেশে নীতি-নির্ধারণ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা তীব্র করেছে। তার বক্তব্য প্রকাশ করছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমের গোপনীয়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণ ও মিডিয়ার নজরদারি ছাড়া নীতি-নির্ধারণ কতটা সীমিতভাবে ঘটতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুটি বিল বাতিল করে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ ট্রাম্পের

দুটি বিল বাতিল করে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ ট্রাম্পের