রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রমজান মাসে এই দায়িত্ব আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে, কারণ এই সময়ে সাধারণ মানুষের ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে। তিনি বলেন, সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তখন রোজা খুব কাছাকাছি ছিল। ফলে রমজানকে কেন্দ্র করে নতুন করে বড় কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সময় খুব বেশি পাওয়া যায়নি। তবে ইতিবাচক দিক হলো—বর্তমানে সরকারের হাতে যে পরিমাণ খাদ্যপণ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে যথেষ্ট।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলতে না পারে। প্রয়োজনে বাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। তার মতে, রমজান মাসে স্বস্তিদায়ক বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি শুধু খাদ্যপণ্যের বিষয়েই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার বিষয়েও কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে বড় আকারের ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশ এই দৌড়ে পিছিয়ে পড়ে, তাহলে বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের মতে, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি প্রশাসন থেকে শুরু করে শিল্প ও বাণিজ্য খাত—সব জায়গাতেই আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু অভ্যন্তরীণ বাজার সামলানো নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা।
সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে তার সুস্পষ্ট ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা ও ইশতেহারে তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব বিষয় সরাসরি সিলেটবাসীর জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করার কথা জানান তিনি।
বিশেষ করে সিলেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট পেশার প্রসার এবং একটি এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তার মতে, সিলেটের তরুণদের জন্য আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্র তৈরি করা গেলে দেশের অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক জটিলতা বা ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জানান, এসব বিষয় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং খুব শিগগিরই এর বাস্তব অগ্রগতি দেখা যাবে। তার ভাষায়, সঠিক পরিকল্পনা ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে সিলেট শুধু একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র নয়, বরং প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাবে পরিণত হতে পারে।
এ সময় সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।