উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি চাপে বড় বাজেটের চ্যালেঞ্জ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি চাপে বড় বাজেটের চ্যালেঞ্জ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 5, 2026 ইং
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি চাপে বড় বাজেটের চ্যালেঞ্জ ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকট দেশের অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই বাজেট প্রণয়নের সময় তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে: বিগত সরকারের থেকে প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত ব্যয় সামলানো। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বাজেটের সম্ভাব্য আকার প্রায় ৮ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যার ফলে ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় দুই লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দুই লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংক ঋণ এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজেটের অন্যান্য কাঠামোতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার প্রায় দুই লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। তবে এবার প্রকল্প বাছাইয়ে কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংক খাত থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ কমে যেতে পারে, যা বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের জন্য বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি দাম ১২০ ডলারের বেশি থাকলে এটি চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। এ কারণে বাজেট প্রণয়নে জ্বালানি ও আমদানি ব্যয়ের চাপ মোকাবেলা গুরুত্বপূর্ণ।

রাজস্ব ঘাটতির বিষয়টি আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে এনবিআরের শুল্ক ও কর আদায়ে প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এনবিআরের আধুনিকায়ন, স্বয়ংক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে বড় বাজেটও কার্যকর হবে না।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে চাপ কমাতে সুদের হার স্থিতিশীল রাখা এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বেসরকারি বিনিয়োগের হ্রাস এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রবৃদ্ধি সীমিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, প্রাথমিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি ব্যয়ের চাপ বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সরকারের লক্ষ্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশ অর্জন করা। এর জন্য শুধুমাত্র সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি নয়, বেসরকারি বিনিয়োগ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে এগোনোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি নিশ্চিত করেছেন, টেকসই এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল করা হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
পররাষ্ট্রনীতি দলীয় প্রভাবমুক্ত করার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

পররাষ্ট্রনীতি দলীয় প্রভাবমুক্ত করার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের