জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী বাজারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসান মোঃ হাফিজুর রহমান নিজ উদ্যোগে ড্রেন পরিষ্কার অভিযান পরিচালনা করেছেন। বাজারের অচল ও ময়লায় ভরা ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অযোগ্য অবস্থায় থাকায় বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়া, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে ব্যর্থতা এবং দোকানপাটে পানি তলিয়ে যাওয়া ছিল স্থানীয়দের প্রধান অভিযোগ।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউএনও নিজে বাজার পরিদর্শনে এসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্রেতাদের সুবিধার্থে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ড্রেন পরিষ্কার ও সচল করা। এরপর বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইন্দুরকানী বাজারের সোনালী ব্যাংক রোড, এমইউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় রোড এবং সদর রোডে অবস্থিত ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয়। বাজার কমিটির সহযোগিতায় অভিযান পরিচালিত হয় এবং ড্রেনগুলো ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় আনা হয়।
বাজারের ব্যবসায়ীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ী ওবায়দুল শিকদার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দোকানের সামনে ড্রেন অকেজো অবস্থায় পড়েছিল। এখন এটি পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় মশার সমস্যা কমবে এবং বৃষ্টির পানি দোকানে উঠবে না। যারা এই কাজ করিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ।”
ইউএনও হাসান মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, “পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আমাদের দায়িত্ব এবং এটি ঈমানের অংশ। প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। দোকানিরা নিজ উদ্যোগে তাদের দোকানের সামনের স্থান ও ড্রেন পরিষ্কার রাখবেন। ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং বাজার কমিটির নিয়মিত তদারকি অপরিহার্য।”
এই উদ্যোগের ফলে বাজারের মানুষ এখন মশা ও পানি তলিয়ে যাওয়া থেকে স্বস্তি পেয়েছেন। এছাড়াও, ড্রেন পরিষ্কার হওয়ায় বৃষ্টির সময় যানবাহন ও পথচারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে। ইউএনওর এই পদক্ষেপ স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার একটি উদাহরণ স্থাপন করেছে।
জিয়ানগরের এই ড্রেন পরিষ্কার অভিযান প্রমাণ করে যে স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতন উদ্যোগের মাধ্যমে শহর বা বাজারে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সহযোগিতায় ড্রেন ও পরিবেশের স্থায়ী পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার লক্ষ্যে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক