মাইগ্রেন কেবল সাধারণ মাথাব্যথা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক সমস্যা। এতে মাথার একপাশে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং আলো বা শব্দে অস্বস্তি হতে পারে। রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, কম পানি পান করা, ক্যাফেইন হঠাৎ বন্ধ করা ও ঘুমের অনিয়ম—এসব কারণে মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়তে পারে।
তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে রোজা রেখেও মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সাহরি বাদ দেবেন না:
সাহরি না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গিয়ে মাথাব্যথা বাড়তে পারে।
সাহরিতে রাখুন পুষ্টিকর খাবার:
ওটস, লাল চালের ভাত, ডিম, মাছ, বাদাম ও দুধজাত খাবার দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়।
মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন:
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার দ্রুত শক্তি দিলেও পরে ক্লান্তি ও মাথাব্যথা বাড়াতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন:
ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত ধীরে ধীরে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করুন, যাতে পানিশূন্যতা না হয়।
যারা নিয়মিত বেশি চা বা কফি পান করেন, তারা রোজা শুরুর কয়েকদিন আগে থেকেই ধীরে ধীরে তা কমান। হঠাৎ বন্ধ করলে ক্যাফেইন উইথড্রয়ালের কারণে তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে। প্রয়োজনে সাহরিতে অল্প পরিমাণ চা বা কফি পান করা যেতে পারে।
রমজানে ঘুমের সময়সূচি হঠাৎ বদলে ফেলবেন না। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার চেষ্টা করুন। দিনের বেলা সুযোগ থাকলে ২০–৩০ মিনিটের ছোট বিশ্রাম নিতে পারেন।
যাদের নিয়মিত মাইগ্রেনের ওষুধ খেতে হয়, তারা রোজা শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে ডাক্তার সাহরি বা ইফতারের পর ওষুধ নেওয়ার সময় নির্ধারণ করে দেবেন।
যদি মাইগ্রেনের ব্যথা খুব তীব্র হয় এবং বারবার বমি হয়, তাহলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রোজা রাখা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সচেতন খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে রমজানেও মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থভাবে রোজা পালন করা সম্ভব।
কসমিক ডেস্ক