আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দলটি ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা জোটের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে এনসিপি জোটগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছে। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোটের হয়ে নির্ধারিত ৩০টি আসনে এনসিপির প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন।
তিনি বলেন, “এই জোট আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংস্কারের জোট। দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো সংস্কার এবং জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমরা একসঙ্গে পথ চলছি।” তার দাবি, জোটগত রাজনীতির স্বার্থে এনসিপি অনেক ছাড় দিয়েছে, তবে অন্যান্য দলগুলোর মধ্যেও একই ধরনের মানসিকতা থাকায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করে আসিফ মাহমুদ বলেন, এই জোট ইনশাআল্লাহ আসন্ন নির্বাচনে সরকার গঠন করবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে ভোটের মাধ্যমে।
দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যারা দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন, তারা এখনও এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদের দেওয়া পদত্যাগপত্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “যারা পদত্যাগ করেছেন, তারা আমাদের অ্যাসেট। এখনও একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আলোচনার দরজা খোলা আছে।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে সবাই আবার দলীয় কার্যক্রমে যুক্ত হবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতায় এনসিপির জন্য ৩০টি আসন নির্ধারণ দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও জোটগত রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা স্পষ্ট করেছে।
এদিকে, ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শিগগিরই আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সেই ঘোষণার পর নির্বাচনী মাঠে জোটের দলগুলোর প্রস্তুতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক