আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা নিয়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা নিয়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 1, 2026 ইং
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা নিয়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা নিয়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগ

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। সম্প্রতি ৭১ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি হাসপাতালের সেবার মান, দায়িত্বহীনতা এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিস্তারিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, তার শিশুর মৃত্যুর সময় নিয়েও তারা নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, শিশুটি ঠিক কখন মারা গেছে তা পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি। তবে তাদের ধারণা, মৃত্যুর পরও চিকিৎসা প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে এবং শিশুর জন্য ওষুধের প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয়েছিল। প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকার ওষুধ লিখে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে ওষুধ আনতে গেলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, শিশুর অবস্থা খারাপ হওয়ার পর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। কিন্তু আইসিইউতে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় শিশুটি মারা গেছে। তবে তাদের বিশ্বাস, শিশুটি এর আগেই মারা গিয়েছিল এবং বিষয়টি সঠিকভাবে জানানো হয়নি।

ঘটনার দিন হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, সেখানে একসঙ্গে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তিনি দাবি করেন, মোট ১২ জন শিশুর মৃত্যুর খবরও তিনি পেয়েছেন এবং সেখানে অভিভাবকদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সকাল থেকে একের পর এক মরদেহ হস্তান্তর করা হচ্ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সদের ভূমিকা নিয়েও তাদের অসন্তোষ ছিল। তার অভিযোগ, সারারাত যথাযথভাবে রোগীদের খোঁজ নেওয়া হয়নি এবং অনেক সময় নার্সরা মোবাইল ব্যবহার করছিলেন। এ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার আশায় তারা অপেক্ষা করলেও যথাযথ সাড়া পাননি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তারা নিজেরাই শিশুকে আইসিইউতে নিয়ে যান। পরে জানানো হয় শিশুটি আর বেঁচে নেই। তবে তাদের ধারণা, মৃত্যুর বিষয়টি আগেই ঘটেছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসা শুরুর আগে আর্থিক বিষয় নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। তার দাবি, বাচ্চাকে না দেখিয়েই টাকা জমা দিতে বলা হয় এবং পরে চিকিৎসা দেওয়া হবে বলা হয়। এমনকি ইউনিফর্ম পরার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়, যা পরে তিনি পরে ভেতরে প্রবেশ করেন।

ভুক্তভোগী জানান, আইসিইউতে গিয়ে তারা চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেখানে প্রথমে একটি কৃত্রিমভাবে হার্টবিট দেখানোর মতো ব্যবস্থা দেখানো হয় বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে বলা হয় হার্টবিট পাওয়া যাচ্ছে না এবং দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি আগেই হার্টবিট না পাওয়া যায় তাহলে কেন পরিবারকে বিভ্রান্ত করা হলো এবং কেন সঠিক তথ্য জানানো হয়নি। পুরো ঘটনায় তারা স্বচ্ছতার অভাব এবং দায়িত্বশীলতার ঘাটতি দেখেছেন বলে অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর মতে, পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সমন্বয়হীনতা, তথ্য গোপন এবং দায়িত্বহীন আচরণের কারণে তারা চরম মানসিক কষ্টের মধ্যে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বরিশালে মিল শ্রমিকদের কর্মবিরতি, ইউনিয়ন নেতাদের বরখাস্তের প

বরিশালে মিল শ্রমিকদের কর্মবিরতি, ইউনিয়ন নেতাদের বরখাস্তের প