জাতিগত নিধন আড়াল করতে পরিচয় বিকৃতি করছে মিয়ানমার: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জাতিগত নিধন আড়াল করতে পরিচয় বিকৃতি করছে মিয়ানমার: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 24, 2026 ইং
জাতিগত নিধন আড়াল করতে পরিচয় বিকৃতি করছে মিয়ানমার: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছবির ক্যাপশন:
ad728

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এ বিষয়ে প্রাথমিক আপত্তি তোলে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৬–১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত জাতিগত নির্মূল অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রম হিসেবে বৈধতা দিতে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করছে মিয়ানমার। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি মানবতাবিরোধী অপরাধ থেকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিত্রায়নের উদ্দেশ্য হলো তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ ও ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করা। এতে তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বা শুদ্ধি অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী। তারা ১৭৮৫ সালে বর্মণ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বহু আগ থেকেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকান অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। ঐতিহাসিক দলিল, ঔপনিবেশিক নথি ও একাধিক গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। ফলে তাদের বিদেশি বা সাম্প্রতিক অভিবাসী হিসেবে দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন জারির আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এমনকি ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত তারা ভোটাধিকার ভোগ করেছে। পরিকল্পিতভাবে ‘বাঙালি’ আখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের পরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করা হচ্ছে এবং জাতিগত নিধনের প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, ভাষাগতভাবে চট্টগ্রামের সঙ্গে কিছু মিল থাকলেও সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জাতিগত পরিচয়ের দিক থেকে রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী। কেবল ভাষাগত সাদৃশ্যের ভিত্তিতে তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতাবিবর্জিত।

বাংলাদেশ স্মরণ করিয়ে দেয়, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার আইনানুগ বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০১৭–১৮ সালে প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত আট বছরে রাখাইনে নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার।

বিজ্ঞপ্তিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, ওই সময় প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল—মিয়ানমারের এমন দাবি বানোয়াট ও প্রমাণহীন। বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলেছে, রোহিঙ্গারা তাদের নিজ ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংস্কারের ছোঁয়া নেই পুঁজিবাজারে, হতাশায় বিনিয়োগকারীরা

সংস্কারের ছোঁয়া নেই পুঁজিবাজারে, হতাশায় বিনিয়োগকারীরা