ইরান যুদ্ধের চাপে বিপাকে ট্রাম্প প্রশাসন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরান যুদ্ধের চাপে বিপাকে ট্রাম্প প্রশাসন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 14, 2026 ইং
ইরান যুদ্ধের চাপে বিপাকে ট্রাম্প প্রশাসন ছবির ক্যাপশন:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরও দেশটির সরকার ভেঙে পড়েনি। বরং পাল্টা কৌশলে ইরান এখন হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী বিমান হামলার পর পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। ইরান শুধু সামরিকভাবে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে না, একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা যাওয়ার পরপরই খবর আসে, রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

এতে প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, ইরানের শাসনব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, খামেনির মৃত্যুর পর দ্রুতই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং দেশটির সামরিক কমান্ড কাঠামোও ভেঙে পড়েনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে ইরানের বিকেন্দ্রীকৃত ‘মোজাইক প্রতিরক্ষা’ কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই কৌশলের ফলে শীর্ষ নেতৃত্বে আঘাত এলেও সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় না।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, ইরানের কিছু সিনিয়র নেতাকে হারালেও দেশটির শাসনব্যবস্থা এখনও বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

তার মতে, তেহরান এখন তিন স্তরের একটি কৌশল অনুসরণ করছে। প্রথমত নিজেদের টিকিয়ে রাখা, দ্বিতীয়ত পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বজায় রাখা এবং তৃতীয়ত যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা—যাতে তারা নিজেদের শর্তে সংঘাতের সমাপ্তি ঘটাতে পারে।

এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। কারণ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়ছে।

ইরান ইতোমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও সস্তা ড্রোন ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে। দুবাইয়ের মেরিনা এলাকায় এবং উপসাগরে থাকা তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপরও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এই পথ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং অনেক দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু দেশে ইতোমধ্যেই জ্বালানি রেশনিং শুরু হয়েছে। এমনকি বিমান চলাচল ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিশ্বের বড় বড় তেল আমদানিকারক দেশগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি মজুদ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বাজারে ছাড়লেও তাতে খুব বেশি স্বস্তি আসেনি।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বড় রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন। কারণ সামনে কংগ্রেস নির্বাচন এবং জ্বালানির দাম বাড়ায় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে হয়তো মনে করেছিল দ্রুত সামরিক সাফল্য পাওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

কানাডার লাভাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জোনাথন প্যাকুইন বলেন, ওয়াশিংটন সম্ভবত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিল যে তাদের হাতে সব কৌশলগত সুবিধা রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানও দীর্ঘমেয়াদে বড় সংকটের মুখে রয়েছে। দেশটির অর্থনীতি ইতোমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে।

তবে পরিস্থিতি সহজে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ উভয় পক্ষই এখন কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন কঠিন দুটি পথ খোলা রয়েছে—একদিকে সরাসরি স্থলযুদ্ধের ঝুঁকি নেওয়া, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা।

তবে যেকোনো সিদ্ধান্তই মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরও বড় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নাইজেরিয়ায় নিরাপত্তা সংকট, ফের প্রাণ গেল অর্ধশত মানুষের

নাইজেরিয়ায় নিরাপত্তা সংকট, ফের প্রাণ গেল অর্ধশত মানুষের