বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 8, 2026 ইং
বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার ছবির ক্যাপশন:

দেশে বজ্রপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সরকার প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন তীব্র হচ্ছে এবং এর ফলে ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখি, টর্নেডো, বন্যা, খরা ও নদী ভাঙনের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার বিদ্যমান নীতিমালা ও পরিকল্পনাগুলোকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫ এবং ২০২১-২০২৫ মেয়াদের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডারস অন ডিজাস্টার’ (এসওডি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ত্রাণমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার এসব নীতিমালা আরও উন্নত করতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে এসওডি সংশোধন এবং ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

একইসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন, যা ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমানোর বিষয়ে ত্রাণমন্ত্রী বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের বজ্রপাতপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে আগাম সতর্কবার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে বজ্রপাতের পূর্বাভাস তৈরি করা হচ্ছে। এই পূর্বাভাস গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ‘ইন্টিগ্রেটেড ভয়েস রেসপন্স’ (আইভিআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আগাম সতর্ক হতে পারেন।

এছাড়া মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট বিতরণ, পোস্টার প্রচার এবং বিশেষ মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে ‘কৃষক ছাউনি কাম বজ্রনিরোধক দণ্ড’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বজ্রপাত কমাতে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে ব্যাপক হারে তালগাছ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও সচেতনতা ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করলে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সরকার যে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলো নিচ্ছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পটিয়া প্রেস ক্লাবের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সভাপতি নুর হোসে

পটিয়া প্রেস ক্লাবের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সভাপতি নুর হোসে