পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তৃণমূলের সব কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা, রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তৃণমূলের সব কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা, রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 3, 2026 ইং
পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তৃণমূলের সব কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা, রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা ছবির ক্যাপশন:

ভারতের West Bengal রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে All India Trinamool Congress (তৃণমূল কংগ্রেস)। দলীয় সংকট, বিদ্রোহ এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে দলটির প্রধান Mamata Banerjee পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তৃণমূলের সব কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বুধবার (৩ জুন) দলটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, গভীর পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের সর্বস্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো আনুষ্ঠানিক পদাধিকারী নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দল পুনর্গঠনের একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে, তবে একই সঙ্গে এটি গভীর সংকটের ইঙ্গিতও বহন করছে।

গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছিল—তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের পথে? সেই জল্পনার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও নাটকীয় করে তুলেছে।

৩১ মে Kalighat-এ নিজের বাসভবনে দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন মমতা। তবে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ১৭ জন উপস্থিত হওয়ায় বৈঠকটি কার্যত ব্যর্থ হয়। এটি দলীয় ভাঙনের একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।

এরপর ১ জুন Kolkata-র বিভিন্ন এলাকায় মিছিলের ডাক দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। এতে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

২ জুন শহরের ওয়াই চ্যানেলে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মাত্র আটজন বিধায়ক ও ছয়জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও পুরো সময় সেখানে অবস্থান করেননি। এসব ঘটনা দলীয় ভাঙনের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করে।

সংকটের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় বুধবার বিধানসভায়। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক Ritabrata Banerjee-কে বিরোধীদলীয় নেতা করার দাবিতে ৫৮ জন বিধায়ক একত্রিত হন। তারা বিধানসভার স্পিকার Rathindra Basu-র কাছে একটি চিঠি জমা দেন।

চিঠিতে দাবি করা হয়, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই তাদের পক্ষে রয়েছেন এবং তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘোষণার মাধ্যমে তারা কার্যত নতুন একটি গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ ঘটান।

তবে ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, ওই চিঠিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলীয় নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বাস্তবে এই ৫৮ জন বিধায়ক কতটা ঐক্যবদ্ধ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে নতুন এই গোষ্ঠী বিধানসভায় বিরোধীদল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি জানিয়েছে এবং চারজনকে উপনেতা হিসেবে মনোনয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বিধানসভা এই প্রস্তাব অনুমোদন করবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।

পুরো পরিস্থিতি এখন পর্যালোচনায় রেখেছেন স্পিকার। কে আসল তৃণমূল, কোন গোষ্ঠী বৈধ—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও পরিষ্কার নয়।

এছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচনা তৈরি হয়েছে যখন মমতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত Firhad Hakim এবং Kunal Ghosh বিরোধী নেতা Suvendu Adhikari-র ডাকা বৈঠকে অংশ নিতে তার দপ্তরে যান। এই ঘটনাকেও অনেকেই রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই সংকট থেকে দল কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
চট্টগ্রাম-৯ আসনে মা-পরিবার নিয়ে ভোট দিলেন সুফিয়ান

চট্টগ্রাম-৯ আসনে মা-পরিবার নিয়ে ভোট দিলেন সুফিয়ান