আগামী তিন অর্থবছরের জন্য দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা Gross Domestic Product (GDP)-এর নতুন প্রক্ষেপণ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬–২০২৭ থেকে ২০২৮–২০২৯ অর্থবছর পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক আকার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সরকারের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, এই তিন অর্থবছরে মোট জিডিপির সম্মিলিত আকার দাঁড়াবে প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। পরবর্তী অর্থবছর ২০২৭–২০২৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৭৬ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আর ২০২৮–২০২৯ অর্থবছরে এটি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৮৬ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের প্রক্ষেপণ সাধারণত দেশের উৎপাদন, বিনিয়োগ, রপ্তানি, আমদানি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। সরকার এবার নতুনভাবে এমএফএমওডি (Macroeconomic Forecasting Model for Official Development) নামক একটি মডেল ব্যবহার করে এই পূর্বাভাস তৈরি করেছে। এই মডেলটি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবণতা বিশ্লেষণে বিভিন্ন আচরণগত সমীকরণ ব্যবহার করে ফলাফল নির্ধারণ করে।
চলতি ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের জিডিপির প্রক্ষেপণও সংশোধন করেছে অর্থ বিভাগ। আগে যেখানে জিডিপির আকার ধরা হয়েছিল ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা, সেখানে সংশোধিত হিসাবে তা কমিয়ে ৬০ লাখ ৮০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রবৃদ্ধির দিক থেকেও সরকার একটি ধাপে ধাপে বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ, এরপর ২০২৭–২০২৮ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭ শতাংশ এবং ২০২৮–২০২৯ অর্থবছরে ৭.৫ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৫ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির সামগ্রিক স্বাস্থ্য নির্দেশ করে, তবে বাস্তব জীবনে এর প্রভাব নির্ভর করে কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি এবং আয় বণ্টনের ওপর। অনেক সময় জিডিপি বাড়লেও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সেই অনুপাতে না বাড়লে অর্থনৈতিক চাপ থেকেই যায়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই এই প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা, প্রবাসী আয় এবং বিনিয়োগ প্রবাহও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে সরকারের এই তিন বছরের জিডিপি প্রক্ষেপণ দেশের অর্থনীতির সম্ভাব্য বড় আকারের সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিলেও, বাস্তব অর্জন নির্ভর করবে নীতি বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
কসমিক ডেস্ক