ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পাশাপাশি ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে রাষ্ট্র পরিচালিত কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, পিয়ংইয়ং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানায়। দেশটির মতে, ইরানি জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের অধিকার রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ ইসলামী বিপ্লবের নতুন নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করেছে। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং ইরানি জনগণের নির্বাচনের প্রতি সম্মান জানানো উচিত।
মোজতবা খামেনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে। দীর্ঘদিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আলী খামেনি যুদ্ধের শুরুর দিকে প্রাণ হারান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরানি জনগণের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের অধিকার ও তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানানোই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হওয়া উচিত।
এদিকে একই বক্তব্যে ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলারও তীব্র সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। মুখপাত্র বলেন, এসব হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে এবং পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
তিনি বলেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে, তারা অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। এই ধরনের পদক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।
কেসিএনএ প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পিয়ংইয়ং মনে করে, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
উত্তর কোরিয়া এর আগেও ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছিল। প্রায় ১২ দিন আগে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ঘটনাকে পিয়ংইয়ং ‘গুন্ডাদের মতো আচরণ’ বলে অভিহিত করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তর কোরিয়া প্রায়ই এমন অবস্থান নেয় যা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরোধিতা করে। ইরানের প্রতি সমর্থন জানানো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা সেই ধারাবাহিক অবস্থানেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার এই বক্তব্যও বৈশ্বিক রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াগুলো আগামী দিনে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক