এইচএসসি পরীক্ষার আগে বড় ধরনের প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড-এর অসাবধানতায় বহু পুরুষ পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডে লিঙ্গ পরিবর্তিত হয়ে ‘ফিমেল’ বা নারী উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি কলেজ কর্তৃপক্ষকেও পড়তে হয়েছে চাপে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মোট ৮১ হাজার ৮৩১ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৭ হাজার ৯৪৪ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৮৮৭ জন। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রিন্ট করার সময় অন্তত ৩৮ হাজার পুরুষ শিক্ষার্থীর কার্ডে ‘ফিমেল’ উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ হাজার কার্ডে এই ত্রুটি থাকার কথা বোর্ড চেয়ারম্যান উল্লেখ করেছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তির প্রায় ছয় মাস পর শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়। এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক মাস আগে রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোতে পাঠানো হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ৮১ হাজার ৮৩১ জন পরীক্ষার্থীর কার্ড প্রিন্ট করা হয় এবং চারটি জেলার কলেজে তা বিতরণও করা হয়েছে।
ঝালকাঠিসহ দুটি জেলায় কার্ড বিতরণের সময় প্রথমে ‘জেন্ডার ত্রুটি’ ধরা পড়ে। দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক পুরুষ শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডে লিঙ্গ হিসেবে ‘ফিমেল’ লেখা রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা সংশোধনের জন্য কলেজে যোগাযোগ করছেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পরীক্ষা সামনে রেখে এমন ভুল ধরা পড়ায় প্রস্তুতির মাঝেই বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেকেই।
বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দীকী জানান, কম্পিউটার অপারেটরের অসাবধানতার কারণেই এ ভুল হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভুল কার্ডগুলো নতুন করে ছাপিয়ে সংশোধন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার আগে ভুল ধরা পড়ায় সমাধান করা সহজ হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশনের ভুল সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত রোববার থেকে ইতোমধ্যে অনেক কার্ড সংশোধন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, এতে শিক্ষার্থীদের হয়রানির সুযোগ নেই।
তবে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভাগীয় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল। তার মতে, শিক্ষার্থীদের হাতে ভুল কার্ড পৌঁছানো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় এবং এটি মানসিকভাবে আঘাতের কারণ হতে পারে। নতুন করে কার্ড ছাপানোর ফলে যে অর্থ ব্যয় হবে, তা কোনোভাবেই কলেজের ওপর চাপানো উচিত নয়; বোর্ডকেই এর দায়ভার নিতে হবে।
আগামী জুন মাসে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে সব ত্রুটি সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকে ঘিরে রেজিস্ট্রেশন কার্ডে বড় ধরনের জেন্ডার ত্রুটি শিক্ষাব্যবস্থার প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীরা এখন আশা করছেন, দ্রুত ও সঠিকভাবে সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আর কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
কসমিক ডেস্ক